নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৩৫ রানের লক্ষ্য পেয়েও স্বস্তিতে জিততে পারেনি ভারত। ব্যাটিং বিপর্যয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচটিকে কঠিন করে তোলে সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত লোকেশ রাহুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৪ রানের জয় পায় ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দলটি।
ওয়েলিংটনে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টির প্রভাব। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সময় কমে যাওয়ায় ম্যাচটি ৫০ ওভারের পরিবর্তে ৪৭ ওভারে অনুষ্ঠিত হয়। টস জিতে প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের একাধিক টপ অর্ডার ব্যাটার। উইল ইয়ং ৬, টিম সেইফার্ট শূন্য এবং হেনরি নিকোলস ১১ রান করে আউট হন। আকিব নবি ও অংশুল কম্বোজ শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
এরপর দলের হাল ধরেন ড্যারেল মিচেল। তবে একবার জীবনও পান তিনি। ২১ রানে থাকা অবস্থায় তার ক্যাচ ছাড়েন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন মিচেল।
অন্যদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। গুরনুর ব্রার একই ওভারে টম লাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন। তার বাউন্সার সামলাতে বেশ সমস্যায় পড়েন কিউই ব্যাটাররা।
পরবর্তী সময়ে মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন ড্যারেল মিচেল। তবে রান তোলার গতি ছিল বেশ ধীর। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন মিচেল। স্যান্টনারও ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি। গুরনুর ব্রারের বলে তার বিদায়ের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
৪১ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ফলে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩৫ রান।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কোনো রান না করেই ফেরেন শুভমান গিল। বিরাট কোহলি বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করলেও ৭ রানের বেশি করতে পারেননি।
রোহিত শর্মা দুটি ছক্কা হাঁকালেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। কাইল জেমিসনের বলে বাজে শট খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অক্ষর প্যাটেলও করেন মাত্র ৭ রান। ফলে অল্প রান তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে ভারত।
এরপর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন শ্রেয়াস আয়ার ও লোকেশ রাহুল। দুজনের ব্যাটে জয়ের আশা ফিরে পায় সফরকারীরা। তবে শেষ দিকে ৩০ রান করে আউট হন শ্রেয়াস।
নতুন ব্যাটার নমন ধীর কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। সেই ক্যাচ ধরেন টিম সেইফার্ট। তবে ক্যাচটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডারের পা দড়ি স্পর্শ করেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণা করেন।
এরপর অংশুল কম্বোজও দ্রুত ফিরে গেলে আরও চাপে পড়ে ভারত। একপর্যায়ে ১১১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ রান।
অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাট করছিলেন লোকেশ রাহুল। তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন আকিব নবি। ভারত যখন জয়ের জন্য আরও ২২ রান দূরে, ঠিক তখনই আবার বৃষ্টি নামে। শেষ পর্যন্ত আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা না থাকায় ডিএলএস পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত অবস্থানের চেয়ে ৪ রান এগিয়ে থাকায় জয় পায় ভারত। ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন লোকেশ রাহুল।
এভাবে সহজ লক্ষ্য পেয়েও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির সহায়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা এবং সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে।
