এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মাতুয়াইলে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী জানান, যেসব শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় এক কিংবা দুই বিষয়ে পাস করতে পারেননি, তাঁদের জন্য আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।
এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২০ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। তাঁদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও এবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার এই সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। এবার ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বরের এই বিশেষ পরীক্ষা নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এখন শিক্ষার্থীদের নজর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ২৩ ডিসেম্বরের ফলাফলের দিকে।
