বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক ছবি ও কনটেন্ট রাখার অভিযোগ সামনে আসার পর গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। একই সঙ্গে নিজের সন্তানদের কেন এত দিন বাবার সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখেছিলেন, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে মেগান জানান, ২০১৮ সালেই তাঁর বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে ঘিরে কিছু উদ্বেগজনক অভিযোগের বিষয়ে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে এ বিষয়ে অবহিত করেন এবং তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি।
এক বিবৃতিতে মেগান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রকাশ্যে আসা তথ্য তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারে—এমন শিশুদের কথা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন।
মেগান আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের উপস্থাপনা ও আলোচনা চললেও বাবার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখার পেছনে যে উদ্বেগ ছিল, তা এবার মানুষ বুঝতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন। নিজের সন্তানদের বাবার সংস্পর্শে যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক বাড়িতে ছবি পাওয়ার দাবি
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে থমাস মার্কেলের সাবেক বাড়ি পরিষ্কার করার সময় তাঁর ছেলে থমাস মার্কেল জুনিয়র কয়েকটি বাক্সে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বলে অভিযোগ করা বিপুলসংখ্যক ছবি খুঁজে পান। তাঁর দাবি, ছবির সংখ্যা শত শত, এমনকি হাজারও হতে পারে।
ঘটনাটি জানার পর থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনের পুলিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে অবহিত করেছেন বলে জানান। দ্য সানকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবার দেখাশোনা ও তাঁকে সহায়তা করলেও বর্তমান পরিস্থিতির পর তিনি আর সেই দায়িত্ব পালন করতে চান না। তদন্তের প্রয়োজনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হলে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
তবে বাক্সে পাওয়া উপাদানের প্রকৃতি এবং এ বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তদন্তে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ফিলিপাইনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিচালক মেলভিন মাটিবাগ এপিকে জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের ম্যানিলা কার্যালয় এ বিষয়ে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে। অভিযোগে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুলাও জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃতি, উপাদানের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে থমাস মার্কেল সিনিয়র তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া বক্তব্যে ৮২ বছর বয়সী থমাস বলেন, ছেলের অভিযোগে তিনি স্তম্ভিত ও মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তিনি এ ধরনের কাজ কখনোই করতে পারেন না।
মেগান ও বাবার সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো বিতর্ক
মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল পেশায় একজন সাবেক টেলিভিশন আলোকচিত্রী। কিছুদিন আগেও তিনি ফিলিপাইনে বসবাস করছিলেন। তবে ব্রেন স্ট্রোক এবং বাঁ পা কেটে ফেলার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি কেয়ার হোমে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে মেগানের বিয়ের সময় থেকেই বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছিল। রাজকীয় বিয়েতে থমাস মার্কেলের অনুপস্থিতি সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক অভিযোগ সামনে আসার পর মেগান তাঁর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়। তাই তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
ঘটনাটি এখন ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
