ভারতের মণিপুরে আবারও সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে সংঘটিত হামলা ও সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকালে ইমফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন মেইতেই সম্প্রদায়ের ১৪ জন গ্রামবাসী। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় অরুবাধু রোনিল ও লাইরেল্লাকবাম ইনাওবিসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও চারজন।
এই ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সেখানে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মরদেহগুলো উদ্ধার করে জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জেএনআইএমএস) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, গত রোববার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লহারি ডোরজে লাথু।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, থৌবাল থানার খাঙ্গাবোক পালি বাজার এলাকায় একটি সংগীতানুষ্ঠানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, কাকওয়া লামদাইবুং লম্পাক এলাকায় একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরপর এসব ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলা, সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন রাজ্যটির বাসিন্দারা।
