ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপের দেশগুলোও নিজেদের সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে আঞ্চলিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংকট নিরসনের কার্যকর পথ তৈরি হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন আরাগচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের অবস্থান ও ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ এবং সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি বর্তমান পরিস্থিতি বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে তাদের নেওয়া নীতি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক অভিযান চালিয়ে কোনো সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা যায় না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও। তিনি এসব হামলাকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি চলমান উত্তেজনা কমানো এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় রাশিয়া ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে জানান।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে লাভরভ ইউক্রেন সরকার ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব পক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, পশ্চিমা দেশগুলোর নীতি এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় কূটনীতির গুরুত্ব উঠে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা ও রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
