ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো সফরে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চার দিনের সফরের প্রথম পর্যায়ে কুয়েতে পৌঁছান ম্যাক্রোঁ। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ। সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবারের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারেও যাওয়ার কথা রয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে ম্যাক্রোঁর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি ম্যাক্রোঁ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সফরের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জ্বালানির উচ্চমূল্যকে সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের চাপ কমাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে তাঁর অবস্থানের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কুয়েতে প্রথম দিনের আলোচনায় জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে ফ্রান্সের অধীনস্থ রেউনিওঁ ও মায়োতে অঞ্চলে দ্রুত কেরোসিন ও ডিজেল সরবরাহের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাক্রোঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিস ও অঁজির শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জ্বালানি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ও কুয়েত এয়ারওয়েজের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা তেল পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জি-সেভেন জোটের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা না কমা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সাধারণ মানুষের ব্যয় কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ম্যাক্রোঁর এই সফর তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নয়; ফ্রান্সের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
