বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হামলার আগে প্রায় ১০ দিন ধরে অভিনেতার চলাফেরা, দৈনন্দিন সময়সূচি এবং যাতায়াতের স্থানগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিল অভিযুক্তরা। এমনকি তাঁর বাড়ি ও জিমের আশপাশেও নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর কীভাবে পালিয়ে যেতে হবে, সেই পরিকল্পনাও আগে থেকে করা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এরপর তদন্তে নেমে হামলার পরিকল্পনা ও অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ির পিছু নেয় মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি। একপর্যায়ে তাঁরা গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালায়। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি গাড়িতে আঘাত করে এবং বাকি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, পঞ্চম গুলি চালানোর পর গাড়ির যাত্রীর পাশের জানালার কাছে থাকা এক হামলাকারী আরও কাছে গিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগ্নেয়াস্ত্র আটকে যাওয়ায় সে আর গুলি ছুড়তে পারেনি।
এই হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে গ্যাংটির সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক এবং হামলার পেছনে কারা নির্দেশ দিয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর পালানোর সময় তিন অভিযুক্তকে রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা আগে থেকেই পালানোর পথ ও যাতায়াতের ব্যবস্থা ঠিক করে রেখেছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা প্রায় ১০ দিন ধরে টাইগার শ্রফের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিনেতা সাধারণত কোন কোন জায়গায় যাতায়াত করেন, তা বোঝার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আলোকচিত্রীদের ভিডিও এবং বিভিন্ন ব্লগারের কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মাধ্যমে কথিত নির্দেশদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামলার স্থান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য এসব যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিন অভিযুক্তের ভূমিকা এক ছিল না। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ। অন্যজন হামলার পর পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর, যার বাড়ি হরিয়ানার সোনিপতে। অন্য দুজন হলেন বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার সোনিপতের ১৮ বছর বয়সী রেহান। রোশন মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম এলাকায় থাকতেন এবং র্যাপিডোতে চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা নির্ধারিত পথ ধরে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। তাদের যাত্রাপথ ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি হয়ে এসভি রোডের দিকে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছাকাছি মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে তারা ট্রেনে করে বোরিভলির দিকে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে তদন্তকারীরা গ্রেপ্তারের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে এই হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, কথিত নির্দেশদাতাদের পরিচয় এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব তথ্যকে প্রাথমিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
