পুরান ঢাকার বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি জানান, মামলাটির দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানিয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরোধী জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও মারধর করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তিরা নিজেদের সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন।
২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায় দেন। আদালত দুই আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, মীর মো. নূরে আলম লিমন, সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। তবে শেষের দুজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে হাইকোর্ট খালাস দেন। অন্যদিকে আপিল না করায় আরও ১১ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার দ্রুত শুনানির আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগে আবেদনটি উত্থাপনের পর শুনানির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি জানতে আপিল বিভাগের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
