বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও নওগাঁর কয়েকটি উপজেলায় কিছু ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিবন্ধন খাতার বাইরে গোপনে পৃথক রেজিস্টারে বাল্যবিবাহের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরে ছেলে-মেয়ের বয়স বৈধ পর্যায়ে পৌঁছালে অর্থের বিনিময়ে এসব বিয়ে মূল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মান্দা, মহাদেবপুর, আত্রাই ও রানীনগর উপজেলায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেশি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিয়ের পর কোনো দাম্পত্য বিরোধ, যৌতুকের দাবি বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক পরিবার আইনি সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়ছে। কারণ, তাদের কাছে বৈধ নিবন্ধনের কাগজপত্র থাকে না।
মান্দা উপজেলার এক পরিবারের দাবি, কয়েক বছর আগে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে হলেও কাজী কোনো কাবিননামা দেননি। পরবর্তীতে মেয়েটি নির্যাতনের শিকার হলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিক নথি না থাকায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে মহাদেবপুরেও, যেখানে একটি শিশুবিবাহের পর সন্তান জন্ম নিলেও সেই বিয়ের বৈধ নিবন্ধনের কোনো প্রমাণ নেই।
মহাদেবপুর উপজেলার এক কাজী স্বীকার করেছেন যে, কিছু ক্ষেত্রে বিয়ের নকল সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় না। বয়স উপযুক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় তা সরবরাহ করা হয়। অন্য কয়েকজন কাজীও এমন অনিয়ম বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নওগাঁ জেলায় চার হাজারের বেশি বিয়ে এবং আড়াই হাজারের বেশি তালাক নিবন্ধিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে আরও অনেক বাল্যবিবাহ গোপনে সম্পন্ন হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, নাবালকদের বিয়ে নিবন্ধনে সহায়তা করা আইনত দণ্ডনীয়। একই সঙ্গে শুধু এফিডেভিট বা নোটারি করে বিয়ে সম্পন্ন করলেও তা বৈধ বিবাহ নিবন্ধনের বিকল্প নয়।
জেলা কাজী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন কাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহ ও অবৈধ নিবন্ধনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
