মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ঘোষণায় নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) আগের মতোই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাও এই নীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। ধারাবাহিক কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় বর্তমান সংকোচনমূলক নীতিই বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার পেছনে দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় কারণই ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের ঋণনির্ভর ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version