তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগ বা হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা নেই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনই এই মহাপরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন এবং শুষ্ক সময়ে পানির সংকট উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ ধরনের বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীও প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিয়ে আঞ্চলিক বা ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। তবে প্রতিবেশী বা সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যৌক্তিক উদ্বেগ থাকলে তা কূটনৈতিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালনায় পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অতীতের মতো অন্য কোনো দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি থেকে বাংলাদেশ সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি বলেন, তিস্তা, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারের নীতিমালা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version