ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কিয়েভ একাধিকবার সমাধানের প্রস্তাব দিলেও মস্কো তা গ্রহণ করেনি। তার দাবি, রাশিয়া এখনও সামরিক লক্ষ্য পূরণেই বেশি মনোযোগী।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য রাশিয়া গত কয়েক বছরে বহুবার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করলেও প্রতিবারই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং সময় বাড়াতে হয়েছে।

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে পুতিন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তার মতে, সেটি ছিল কিয়েভের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল, তাই তিনি তা গ্রহণ করেননি।

জেলেনস্কির ভাষ্য, পুতিন দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মতো অবগত নন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে পেট্রোলপাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়া যুদ্ধেরই একটি প্রতিফলন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাদের বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে না; বরং নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।

তার মতে, রাশিয়ার নেতৃত্ব এখনও ডনবাস দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। তবে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমদিকে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হলেও পরে সেই প্রচেষ্টা থেকে সরে এসে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে অভিযান জোরদার করে।

বর্তমানে লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরো অংশ এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়ার উল্লেখযোগ্য এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অগ্রগতির গতি কমেছে। একই সময়ে ইউক্রেনও মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে।

এ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। যদিও পুতিন যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি আলাদা করে মন্তব্য করেননি।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষ্যে ইউক্রেন বারবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তিনি রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version