দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার অভিন্ন বিষয়গুলোর পরীক্ষায় একই প্রশ্নপত্র চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানসহ যেসব বিষয় দুই ধারার শিক্ষায় একইভাবে পড়ানো হয়, সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য কমানো এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সমতা আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে সেখানে কারিগরি শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়া আগামী দিনে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একযোগে একই প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী তিন মাসে প্রায় ৫০ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে এনটিআরসিএর আওতায় আন্তঃজেলা বদলি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক ও সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

