আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের হিসাবে প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের (ACI) প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ আন্তর্জাতিক যাত্রী।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর। বছরের প্রথমার্ধে সেখানে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার। আর প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর।

ইনচিয়নের যাত্রী বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব বিমান পরিবহন খাতেও পড়েছে। ওই অঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের একটি অংশ বিকল্প রুট হিসেবে ইনচিয়ন ব্যবহার করছেন।

গত দুই বছরে পূর্ণ বছরের হিসাবেও ইনচিয়নের অবস্থান এতটা ওপরে ছিল না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে। তবে চলতি বছরের পরিবর্তিত যাত্রী প্রবাহের কারণে দুবাই এবার শীর্ষ পাঁচের বাইরে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লন্ডন হিথ্রো ২০২৪ সালে পঞ্চম এবং ২০২৫ সালে সপ্তম অবস্থানে ছিল। একই সময়ে ইনচিয়নের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১২তম ও ১৩তম।

ইনচিয়ন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগে ইউরোপ ভ্রমণের সময় দুবাইকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করতেন এমন কিছু যাত্রী এখন দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিমানবন্দর বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইনচিয়নে ট্রানজিট যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

ইউরোপকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া ট্রানজিট যাত্রীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই শ্রেণিতে যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত কয়েক বছরে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে ইনচিয়ন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ফ্লাইট ও যাত্রীর চাপ সামলাতে পারছে। ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিমানবন্দর বর্তমানে বিশ্বের ১৫৮টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচলের সুবিধা দিচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৩৯টি, সাংহাইয়ের পুডং বিমানবন্দর ৯২টি এবং টোকিওর নারিতা বিমানবন্দর ৮৬টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত।

ইনচিয়ন বিমানবন্দর করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কিম বিওম-হো বলেন, বিশ্বের এক নম্বর বিমানবন্দর হিসেবে ইনচিয়নের অবস্থান তৈরি হওয়ার পেছনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা, সাধারণ মানুষের সমর্থন এবং বিমানবন্দরের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতেও যাত্রীদের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান আরও উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে ইনচিয়নের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের এই নতুন পরিসংখ্যান দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান পরিবহন খাতে ইনচিয়নের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই তুলে ধরছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version