স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Bobby Hajjaj। তিনি বলেছেন, শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়; বরং শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সরকারি কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—সবার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সততার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এত বড় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব হলেও শিশুদের খাদ্যের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। যারা নির্ধারিত শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, ভবিষ্যতে তারা এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সভায় কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—খাদ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং কোন মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ান নিয়োগ, স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো শিশুরা যেন নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পায়। এজন্য বাস্তবভিত্তিক সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

সভায় Sakhawat Hossain–এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন Shahina Ferdousi, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version