প্রধানমন্ত্রী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পরিবেশ ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুক্তি অনুমোদন
বৈঠকে সরকার ও সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ
মন্ত্রিসভা ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব উত্থাপন করে।
আইবিসিএ হলো বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী সংরক্ষণে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জোট, যা ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি হিসেবে সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে জোটটি বাঘ, সিংহ, চিতা, তুষার চিতা, জাগুয়ার ও অন্যান্য বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে।
নিরাপদ অভিবাসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন
এছাড়া ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (জিসিএম-ন্যাপ) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে। নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগে গৃহীত জিসিএম কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও (আইওএম)-এর সহযোগিতায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতি বাস্তবায়ন ও প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
