রাজধানীতে মাত্র এক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক তলিয়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল, মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে একাধিক যানবাহন। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও ঈদযাত্রার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নীলক্ষেত–আজিমপুর–কবরস্থান সংলগ্ন সড়ক এলাকা। একই সঙ্গে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকাতেও তৈরি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরের আগে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে নিউমার্কেটের প্রধান ফটক থেকে নীলক্ষেত হয়ে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান অভিমুখী সড়কে দ্রুত পানি জমতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক হাঁটুসমান পানির নিচে তলিয়ে যায়।

দুপুরের দিকে আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সারিবদ্ধভাবে আটকে পড়ে। পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে যায় অনেক যানবাহন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর কবরস্থান পর্যন্ত সড়ক যেন এক বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমে থাকতে দেখা যায়। নিউমার্কেটের বিপরীত পাশের সড়কে একটি প্রাইভেট কার প্রায় অর্ধেক পানিতে ডুবে আটকে যায়।

নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি বাড়ার আশা থাকলেও বৃষ্টির কারণে পুরো এলাকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ক্রেতা না থাকায় দোকানগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে এবং অনেক দোকানি মালামাল রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে জলাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু মানুষের জন্য তৈরি হয় আয়ের সুযোগ। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে পানিতে আটকে থাকা পথচারীদের পারাপার করান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের মধ্যে এ পরিমাণ বৃষ্টিপাতকে ভারি বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নানা প্রকল্প নেওয়া হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাদের মতে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই এই দুর্ভোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version