কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সান লুকাস পর্বতমালার কাছাকাছি সান্তা রোসা দেল সুর শহরে অবস্থিত একটি সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র সহিংসতা বাড়ছে। এর মধ্যে সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্বর্ণখনির জন্য পরিচিত সান্তা রোসা দেল সুর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন এবং ফার্কের সাবেক সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত কয়েকটি সশস্ত্র দল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলার পরপরই সামরিক ঘাঁটি থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পর সেনাসদস্যদের বালুর বস্তা দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আড়ালে আশ্রয় নিতেও দেখা গেছে।
ঘটনাটির পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, হামলাকারীদের পালিয়ে বা আত্মগোপন করে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনাদের ওপর এমন আক্রমণ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।
গত আগস্টে রক্ষণশীল নেতা দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলম্বিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সহিংসতা বেড়েছে। বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে তাঁর সরকার।
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার, বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠন। ক্যারিবীয় উপকূল থেকে মধ্য কলম্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনসহ কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে এই নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
কলম্বিয়া সরকারের অভিযোগ, আগের প্রশাসনের সময় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে।
