আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে জোট না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অতীতের মতো ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা ব্যালটে জালিয়াতির ঘটনা ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন। আর সেই নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ নিজস্ব শক্তিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিপরীতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি উগ্রবাদী রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে চাইছে।
এ সময় ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। নুর বলেন, ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু যারা ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলে মনে করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দলটির তরুণ নেতাদের সামনে নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে অবস্থান না করে প্রগতিশীল রাজনীতির ধারায় আসার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপি থেকে কয়েকজন তরুণ নেতার সরে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের কারণে দলটির প্রগতিশীল অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ কারণে সামান্তা শারমিন ও তাসনিম জারাসহ কয়েকজন তরুণ নেতৃত্ব দলটি ছেড়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নুরুল হক নুরের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
