বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি হত্যার ঘটনায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ রেস্তোরাঁয় অবস্থানকালে হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানতে চায় পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এসব তথ্য তুলে ধরে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় হঠাৎ অন্যদের কাছ থেকে সরে যান দীপ। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তিনি আলাদা অবস্থানে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে কার সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবা কোথায় গিয়েছিলেন, তা তদন্তের স্বার্থে জানা জরুরি।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার সময় পর্যন্ত দীপের অবস্থান এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, দীপের দেওয়া বক্তব্য, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড এবং হত্যার সম্ভাব্য কারণ পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ঘটনার পর দীপের আচরণে দৃশ্যমান উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি কয়েকটি বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করা হয়। হত্যার পুরো রহস্য উদঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
তবে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের আবেদনের বিরোধিতা করেন দীপের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী দীপ ইতোমধ্যে তদন্তে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিয়েছেন। এরপরও বারবার রিমান্ড চাওয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে প্রত্যাশিত বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।
চার দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর নতুন করে রিমান্ড চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও আপত্তি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপের শারীরিক সুস্থতা এবং খাবারের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন তিনি।
শুনানি চলাকালে দীপকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনজীবীর দিকে তাকিয়ে ইশারা করতে দেখা যায়। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাঁর আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে কেএম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।
তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রেস্তোরাঁয় দীপের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের অনুপস্থিতির রহস্য। ওই সময়ের যোগাযোগ ও চলাফেরার তথ্য থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
