সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ জমজমের পানি গোপনে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে জরিমানার মুখে পড়েছেন এক ব্যক্তি। গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের অভিযোগে তাকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্বিতীয় প্রাথমিক কাস্টমস কমিটির দেওয়া এক রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রায়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহাদ কজওয়ে সীমান্ত কাস্টমস চেকপোস্টে ওই ব্যক্তির গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাড়ির পেছনের বুটে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
সৌদি আরবের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জমজমের পানি বাণিজ্যিকভাবে বা অনুমোদন ছাড়া দেশের বাইরে রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। তাই প্রয়োজনীয় ঘোষণা ও অনুমতি ছাড়া বিপুল পরিমাণ পানি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকে শুল্ক আইন লঙ্ঘন এবং পাচার হিসেবে বিবেচনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা পানির নির্ধারিত মূল্যের সমপরিমাণ, অর্থাৎ ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা সব জমজমের পানি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি কৌঁসুলিপক্ষ শুধু জরিমানা নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারাদণ্ডেরও আবেদন করেছিল। তবে কাস্টমস কমিটি সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এ কারণে আর্থিক জরিমানাকেই তার অপরাধের জন্য যথেষ্ট শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসির সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর ধারার আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক আইন ভঙ্গ করে পণ্য পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি দেশের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমতি মেনে চলা জরুরি। অন্যথায় ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি বহনের চেষ্টাও আইনি জটিলতা ও আর্থিক জরিমানার কারণ হতে পারে।
