জাপানের টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। উড়োজাহাজটি টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করার পর রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় স্পয়লারে ত্রুটির সংকেত পাওয়া যায়। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির নারিতা বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের বোর্ডিং শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। পরে রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির সংকেত দেখা যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এরপর বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকৌশলীরা। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি দল সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, ত্রুটি মেরামত করে উড়োজাহাজটিকে আবার উড্ডয়নের উপযোগী করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার অবতরণের সময় উড্ডয়নক্ষমতা কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনার জন্য এই ব্যবস্থার সঠিকভাবে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্পয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়ন স্থগিত রাখা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদও ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি সমাধানে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
