গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি এখনো শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্নাফ আহমেদ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত তপন চন্দ্র দাস ও লিখন চন্দ্র দাস শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁরা গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গাজীপুরা-২৭ চৌরাস্তা এলাকায় মিজানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, দুর্ঘটনার পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়িটি শনাক্ত করা এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
