দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রাথমিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণের তথ্য থেকে এ কম্পনের বিষয়টি জানা যায়। তবে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোলা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য একটি প্রাথমিক পরিমাপে ভূমিকম্পের কেন্দ্র পোর্ট-ওলরি শহর থেকে প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানানো হয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের এই দুই হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকায় একই ভূমিকম্পের কেন্দ্র নির্ধারণে পৃথক পরিমাপ করা হয়েছে, নাকি ওই অঞ্চলে একাধিক ভূকম্পন ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দুটি হিসাবই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু সংলগ্ন এলাকায় অগভীর ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ভানুয়াতুর বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে কি না কিংবা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সুনামি সতর্কতা জারির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বীকৃত সুনামি সতর্কতা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন সতর্কতা জারি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার এই ভূমিকম্প দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা এবং সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
