বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তামিলনাড়ু উপকূলের দিকে হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জানান, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
তিনি জানান, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী সোমবার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে মঙ্গলবারের দিকে।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টিহীন দেশের অধিকাংশ এলাকা
এদিকে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে থাকা ৫১টি স্টেশনের কোনোটি থেকেই গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির তথ্য পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ তৈরি হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে ওঠেনি। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবের কারণে বাতাসের প্রবাহ সাগরের দিকে থাকায় দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কমে গেছে।
তবে এবারের লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আগের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
দিনে গরম, রাতে কমছে তাপমাত্রা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্যও বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও রাতের শেষ ভাগ ও ভোরে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের আগমনী অনুভূতি দেখা দিতে শুরু করেছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে, ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে রাতের তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদেরা। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া দেখা দিতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ, শক্তি ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
