ভারতের বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তবে বাংলাদেশের কিংবা নেপালের মতো গণবিক্ষোভের মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সরকার পরিবর্তন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ রাজের এই বক্তব্য উঠে এসেছে।

দিল্লিতে তিরাঙ্গা মার্চ কর্মসূচির আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তাঁদের আটকের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতকে বাংলাদেশ বা নেপালের পরিস্থিতির সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। ভারতের নাগরিকদের হাতে রয়েছে সংবিধান, ভোটাধিকার এবং মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগত সিংয়ের আদর্শ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়েও সরব হন প্রকাশ রাজ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে পুলিশের শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরাঙ্গা’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে প্রকাশ রাজ প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দেশের তরুণেরা প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামলে তাঁদের বাধা দেওয়া হবে কেন? তাঁর মতে, সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বলপ্রয়োগ করে মানুষের প্রতিবাদ থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আসন্ন শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

প্রকাশ রাজের বক্তব্য, কৃষক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আন্দোলনে যুক্ত হলে প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর মতে, সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পথ ও ভোটাধিকারই হওয়া উচিত প্রধান মাধ্যম।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, আন্দোলনকারীদের আটক এবং প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের মধ্যেই প্রকাশ রাজের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version