সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসহযোগিতা কিংবা কাজে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না, সেগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক বাধা কিংবা বাস্তব কোনো সমস্যা থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ কমিটির কাছে তুলে ধরতে হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য বা নথি গোপন না করে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
নাগরিকদের সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম বাঁচানোর পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি বলেন, প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে গতানুগতিক চিন্তাভাবনার বাইরে এসে স্বচ্ছতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, তাঁদের দায়িত্ব দেশের জনগণ ও প্রজাতন্ত্রের প্রতি; কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি নয়।
এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে মানসিকতার পরিবর্তন, দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্মরণ করা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনাও করা হয়।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীসহ কমিটির সদস্য এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
সরকারি কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে এসব সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
