ভ্যাটের রিটার্ন বা দাখিলপত্র জমা দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং নিয়মিতভাবে রাজস্ব সংগ্রহের প্রক্রিয়া জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার ভ্যাটের দাখিলপত্র জমা দেওয়ার পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আলাদাভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সংশোধিত অধ্যাদেশের খসড়াটি উপস্থাপন করে।

মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারায় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত তিনটি কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধানের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি কর মেয়াদের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক হবে।

তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত ১৫তম দিন যদি সরকারি ছুটির দিন হয়, সেক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান ও রিটার্নদাতার জন্য আলাদা সময়সীমার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শূন্য রিটার্ন জমা দেন, তারা সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় আরও গতি আনা এবং ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় নিয়মিততা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও এটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। ফলে ভ্যাট রিটার্ন জমাদানের নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version