পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০ জন।

শনিবার ডেরা ইসমাইল খান জেলার একটি সড়কের পাশে থাকা পুলিশ চেকপোস্টে এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় নিহত ও আহতদের বড় একটি অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং পথচারী।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারী চেকপোস্টে আঘাত করে। এরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হন।

হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে হামলার স্থান ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এবং আত্মঘাতী হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। টিটিপি পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে।

ডেরা ইসমাইল খান ও এর আশপাশের অঞ্চল পাকিস্তানের নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

চলতি সেপ্টেম্বরেও খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ কম্পাউন্ডের কাছে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আল-জাজিরা, যাদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

ডেরা ইসমাইল খানেও এর আগে বড় ধরনের হামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি পুলিশ স্থাপনার প্রধান ফটকে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালানো হলে অন্তত ২৩ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

এদিকে পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা পরিচালনা করছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফলে সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্কেও উত্তেজনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলাটি এমন এক সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা চলছে। ডেরা ইসমাইল খান আফগান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।

নতুন এই হামলার পর এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ফলে ডেরা ইসমাইল খানের এই আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকটের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও বিস্তারিত তথ্য তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রকাশ পেতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version