কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ার ফলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহক—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।
বেড়েছে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার ৬০৩ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ৭৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
পরবর্তী সময়ে সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পায়। দুপুর ২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আরএলএনজি থেকে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে টোটালএনার্জির কাছ থেকে কেনা এলএনজির একটি কার্গো শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মহেশখালীর সামিট টার্মিনালে স্থানান্তর শুরু হয়।
কার্গো থেকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তরের কার্যক্রম চালু হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
বৈরী আবহাওয়ায় আগের দিন ব্যাহত হয়েছিল কার্যক্রম
এর আগে বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি কার্গো থেকে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তরের কাজ ব্যাহত হয়।
এতে আরএলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমে যায়। ফলে শিল্প ও আবাসিক—দুই খাতেই গ্যাস সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়ে।
তখন পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে।
