কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও দাবি, তার ছেলেকেও মাদক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি এবং রাতের বেলায় বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগ জানিয়ে বুধবার বুড়িচং থানায় লিখিত আবেদন করেছেন ওই বিধবা। তিনি উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের বাসিন্দা।

অভিযোগে ওই নারী জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তানকে নিয়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সরকারি সহায়তার আশায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।

তবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় ইউপি সদস্য তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয় বলে তার দাবি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সম্মতি না দিলে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে তার বাড়িতে গিয়ে দরজা খোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করলে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার ছেলেকে মাদক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই নারী।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আবুল কাসেমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফয়সাল ওই বিধবার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর প্রায় তিন দিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউপি সদস্য আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কাসেমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে প্রথমবার জানতে পেরেছেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযোগের কপি এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version