পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব এবার সরাসরি দেখা যাচ্ছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছ ও ডিমের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে এসব পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক খরচ সামলাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। মাছ, ডিম ও সবজির মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় এই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের ক্ষেত্রেও প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় উঠেছে। তবে কিছু দোকানে ১৫৫ টাকা ডজনেও ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল প্রায় ৮০ টাকা এবং জাতভেদে বেগুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলার দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা এবং টমেটো ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া ধুন্দল ও চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুমুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম রয়েছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। একটি চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লম্বা লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাড্ডার এক সবজি বিক্রেতার দাবি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আড়ত থেকে পণ্য সংগ্রহের খরচও বেড়েছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যোগ করতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই প্রায় ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি কাতল ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় কাতলের দাম প্রায় ৪৫০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে বড় তেলাপিয়া ২৮০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২৪০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের চিংড়ির দাম আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

জোয়ারসাহারা বাজারের এক মাছ বিক্রেতা জানান, মাছ পরিবহনের গাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আড়ত পর্যায়েও দাম কিছুটা বেড়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ছে।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং জাতভেদে সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা মনে করছেন, পরিবহন ব্যয় আরও বাড়লে মুরগির দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সোনালি মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

তবে সব নিত্যপণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়েনি। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর মতো কয়েকটি পণ্যের দাম বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় স্থিতিশীল ছিল। বাজারে পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন প্রায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের দাম রয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব থাকলেও সেই সুযোগে কোনো ব্যবসায়ী যাতে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version