নরসিংদীর রায়পুরায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নুরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ ওঠার পর তিনি কয়েক দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর নুরুল ইসলাম বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। প্রথমে তিনি রাধানগর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় ছিলেন। পরে সেখান থেকে হাঁটুভাঙা এলাকায় চলে যান।
শুক্রবার দুপুরে রাধানগর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় এক যুবক চিনতে পারেন। পরে ওই যুবক তার অবস্থানের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি এলাকায় সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। একই এলাকার শিক্ষক শান্তা আক্তারের কাছে সে নিয়মিত সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়তে যেত। প্রতিদিন পড়া শেষে তার মা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন।
তবে ঘটনার দিন অসুস্থতার কারণে শিশুটিকে আনতে যেতে পারেননি তার মা। ওই সময় প্রাইভেট পড়া শেষে শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক শান্তা আক্তারের বাবা নুরুল ইসলাম তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হন বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, পথে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুটির আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখতে পান স্বজনরা। বিষয়টি জানতে চাইলে সে পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ওপর নুরুল ইসলাম যৌন নির্যাতন করেছেন। তার মেয়ের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
রায়পুরা থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল। পাশাপাশি তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে শুক্রবার বিকেলে হাঁটুভাঙা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বিকেল ৩টায় উপজেলার দৌলতকান্দি স্টেশনে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
