ইসলামে বিয়ে শুধু দুই ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন। তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবার ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পরিবার বা অভিভাবকদের অজ্ঞাতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ইসলামের আদর্শ ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বিয়ের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি পারিবারিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং বর-কনের উপযুক্ততা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দায়িত্বপূর্ণ চুক্তি। জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবারের পরামর্শ নেওয়া হলেও অনেক সময় বিয়ের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হয়, যা কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের আগে নারী-পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক ইসলাম নিরুৎসাহিত করে এবং পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাই গোপনে বা পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা নানা জটিলতা ও পারিবারিক সংকটের কারণ হতে পারে।

তবে কোনো বিয়ে ইসলামী শরিয়তের প্রয়োজনীয় শর্ত ও বিধান পূরণ করে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, সাক্ষী, অভিভাবকের ভূমিকা এবং অন্যান্য ফিকহি বিষয়ের ওপর। এ কারণে এমন কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানতে হলে অভিজ্ঞ আলেম বা মুফতির সঙ্গে পরামর্শ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারিবারিক সম্মতি ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হলে তা ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনের জন্য অধিক কল্যাণকর ও স্থিতিশীল হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version