ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন।

সভায় তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করেই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের যুক্ত করার নির্দেশ দেন। স্থানীয় পর্যায়ে এসব সংগঠনের সহায়তায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব পায়, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে রোগের বিস্তার কমানো সম্ভব হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের কার্যকর প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version