মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অঞ্চলটির তেল রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
তেলবাহী জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হলেও আগস্ট মাসে সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় রপ্তানি প্রায় ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মে মাসে রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছিল। এরপর কিছুটা উন্নতি হলেও সরবরাহ ঘাটতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল কম রপ্তানি হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তাদের ধারণা, চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারে বিলম্ব এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ওপরও পড়তে পারে।
