সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশেখে দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর মোদি ও পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিও ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র, ঠিক সেই সময় দুই নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ইরান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের একটি হলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

এর আগে জুন মাসে টেলিফোনে আলাপকালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন পেজেশকিয়ান।

বৈঠকের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট নিজের দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সম্প্রতি একটি ইরানি দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পেজেশকিয়ানের মতে, এসসিওর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে স্বাধীন অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এদিকে অন্য এক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version