সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সোমবার সকালে দেশে ফিরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। দেশে ফিরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সরকারের আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ। তবে তার মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সময় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এমন ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো একটি দেশ বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রেই সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ খোলা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরাবিষয়ক উপকমিটির প্রধানের দায়িত্বেও থাকা আসিফ মাহমুদ দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, বাড়তি মূল্য ও বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধের পরও অনেক মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রবাসী শ্রমবাজারের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়েও কথা বলেন তিনি। সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দামের উদাহরণ দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকিটের মূল্য প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকার আশপাশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে একই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে কোথাও কোথাও ৮০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের ওপর পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, অন্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সেখানে যেতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে, যা ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রবাসী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত লংমার্চ নিয়েও কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ ও বিভিন্ন সংকটের বিষয় সামনে তুলে ধরতে চান তারা। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

