সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সিদ্ধান্তের আওতায় সিরিয়ার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএসের ওপর থাকা বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের মর্যাদাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, এর ফলে সিরিয়ার ওপর থাকা বিভিন্ন রপ্তানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আল-শারা আগে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন।

রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা, হিজবুল্লাহ এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র নেটওয়ার্কের কার্যক্রম দুর্বল করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ভূমিকা রেখেছে। এসব পরিবর্তনই ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সিরিয়াকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ওয়াশিংটন, দামেস্ক ও আঙ্কারার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম বারাক ওই হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মন্তব্যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এরপর কয়েক দশক ধরে দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। গত জুনে ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ এবং পরে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে আহমেদ আল-শারা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ প্রক্রিয়া আরও গতি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। চ্যাথাম হাউজের সহযোগী গবেষক নাতাশা হলও এটিকে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিরিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল। সংগঠনটির মতে, নিষেধাজ্ঞা ও সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version