ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিলে বিশ্ববাজারে তার কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই আগের দিনের দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য কমেছে। প্রতি ব্যারেলে ৯ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ১৬ ডলারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। প্রতি ব্যারেলে ১ সেন্ট বেড়ে এটি ৮৫ দশমিক ২ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে সোমবার তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছিল। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন মূলত ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইরানের তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি প্রবাহে তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবও তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা একদিকে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি, অন্যদিকে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখছেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আপাতত বড় ধরনের ওঠানামার পরিবর্তে স্থিতিশীলতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version