ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ হলেও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত স্বীকার করেন, দলের ব্যাটিং প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশন ও বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বিশেষ করে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের মতো বোলারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শান্ত। তার মতে, এ ধরনের মানসম্পন্ন পেস আক্রমণের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ব্যাটাররা আরও দ্রুত নিজেদের উন্নত করতে পারবেন।

স্টার্কের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, অভিজ্ঞ এই পেসার এখনও বিশ্বসেরাদের একজন। নতুন বল হাতে তার সুইং ও গতি ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বয়স ও আগের তুলনায় গতি কিছুটা কমলেও স্টার্ক নিজের সামর্থ্য দিয়ে এখনও প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে আছেন বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, ডারউইনে দুর্দান্ত জয়ের পর টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ছয় নম্বরে উঠে আসাকেও বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন শান্ত। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনেক বড় লক্ষ্য রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে সেই লক্ষ্য এখনই প্রকাশ করতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে এসে বাংলাদেশের এমন সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার পথ তৈরি করবে বলেও আশা করেন শান্ত। তার মতে, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দুর্বলতাগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ম্যাকাই টেস্টে প্রথম দিনেই ১৮টি উইকেট পড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। শান্ত মনে করেন, উইকেটের কঠিন চরিত্রের কারণেই এত দ্রুত উইকেটের পতন হয়েছে। উপমহাদেশের উইকেটে দ্রুত উইকেট পড়লে যেমন সমালোচনা হয়, তেমনি অন্য কন্ডিশনেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বাংলাদেশ অধিনায়ক একই সঙ্গে সিরিজের প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তার মতে, দ্বিতীয় টেস্টের হতাশাজনক ফলের কারণে ডারউইনের সেই বড় অর্জনকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বরং পুরো সিরিজ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের পারফরম্যান্সেও কিছুটা ইতিবাচক দিক দেখেছেন শান্ত। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়েও নিচের সারির ব্যাটাররা অবদান রাখছেন এবং তাদের উন্নতি দলের জন্য ভালো খবর। তবে এমন কঠিন কন্ডিশনে শুধু একজন-দুজন ব্যাটারের ওপর নির্ভর করে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

মাত্র দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়াকে অবশ্য অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না শান্ত। তার মতে, ক্রিকেটে এমন ফলাফল আগেও দেখা গেছে এবং কঠিন উইকেট ও শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কারণে কখনো কখনো ম্যাচ দ্রুত শেষ হয়ে যেতেই পারে।

তবে ভবিষ্যতে সাফল্য ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে ধারাবাহিক হতে হবে—এটাই শান্তর মূল বার্তা। তার মতে, বোলাররা নিজেদের কাজ ভালোভাবেই করছে। এখন ব্যাটিং বিভাগকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং কঠিন কন্ডিশনে পাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version