যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কৌশল পরিবর্তন করে এখন অর্থনৈতিক চাপকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি।
রোববার দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তি ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। ফলে এখন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
জেনারেল মহেব্বি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের সামরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক চাপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য আর্থিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি রপ্তানি এবং কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের দাবি অনুযায়ী, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে নতুন ধরনের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

