ইরান বর্তমানে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে এবং এ কারণে সরকারও উদ্বিগ্ন।

মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে। তার ভাষায়, এটি একটি অসম লড়াই হলেও ইরান পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। বরং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করছে।

পেজেশকিয়ানের দাবি, ইরানের প্রতিপক্ষরা মনে করেছিল দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আলোচনার গতি থেমে যায়।

বিশেষ করে সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে যেকোনো অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরানের সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান আপাতত চাপের মুখে নতি স্বীকারের বদলে অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিরোধের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version