বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় তাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে তার পরিবারের পুরোনো ইতিহাস ও পৈতৃক শেকড়ের তথ্য।
মির্জা ফখরুলের নামের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। সেখানেই তার জন্ম, শৈশব ও বেড়ে ওঠা। তবে তার পরিবারের আদি নিবাস ঠাকুরগাঁওয়ে নয়। মির্জা পরিবারের পৈতৃক ভিটা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।
এই গ্রামেই জন্মেছিলেন তার বাবা মির্জা রুহুল আমীন এবং চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ। স্থানীয়ভাবে মির্জা রুহুল আমীন ‘চোখা মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি তিনি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মির্জা পরিবারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন মির্জা গোলাম হাফিজ। ১৯২০ সালের ২ জানুয়ারি মির্জাপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া গোলাম হাফিজ পেশায় আইনজীবী ছিলেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ছিল। ফলে একই পরিবারের দুই ভাইই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
এই রাজনৈতিক পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেটেছে মূলত ওই জেলাতেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয়ও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৯ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।
জন্ম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের নাম জড়িয়ে থাকলেও মির্জা ফখরুলের পারিবারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে পঞ্চগড়ের মির্জাপুরে। বাবা ও চাচার জন্মভূমি হওয়ায় ওই গ্রামের সঙ্গে মির্জা পরিবারের সম্পর্ক বহু পুরোনো।
অর্থাৎ, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু ঠাকুরগাঁও হলেও তার পারিবারিক শেকড়ের সন্ধান পাওয়া যায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর মির্জাপুর গ্রামে।
