ইরানের ভূখণ্ডে অনুমোদন ছাড়া স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা পরিচালনার অভিযোগে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান। এ ঘটনায় নরওয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ৪ অক্টোবর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসাননেজাদ পিরকুহি নরওয়ের রাষ্ট্রদূত পাল বিয়র্নেস্তাদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেন। বৈঠকের সময় রাষ্ট্রদূতের কাছে ইরানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়।
ইরানি কর্মকর্তার অভিযোগ, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তেহরানের দাবি, ইরানের ভূখণ্ডে এই সেবা চালানোর জন্য দেশটির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
বৈঠকে পিরকুহি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা আইটিইউতে স্টারলিংকের নিবন্ধনকারী রাষ্ট্র হিসেবে নরওয়ের নির্দিষ্ট আইনি দায়িত্ব রয়েছে। ইরানের দাবি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না নরওয়ে।
ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইটিইউর রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের আলোকে ইরানের ভূখণ্ডে স্টারলিংকের অনুমোদনহীন সম্প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নরওয়ে সরকারের। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে অনুরোধ জানানো হলেও নরওয়ে সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, অনুমোদনহীন এই কার্যক্রম দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে নরওয়ের কাছে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান।
স্টারলিংক সেবা পরিচালনা করে স্পেসএক্স। স্যাটেলাইটনির্ভর এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে এই সেবা অনুমোদন ছাড়া সক্রিয় করা হলে সেটি শুধু যোগাযোগের বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর নরওয়ে ও ইরানের মধ্যে স্টারলিংক নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, ইরানের ভূখণ্ডে অনুমোদনহীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যক্রম বন্ধে তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
