পাকিস্তানে গাড়িতে হামলা চালিয়ে এক টিকটক তারকাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ট্যাক্সিলা এলাকায় গাড়িতে গুলি চালিয়ে শামসু বিবি নামে ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়।
হামলায় তার ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন আসিমাও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাত বন্দুকধারী গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
শামসু বিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি টিকটকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন এবং সেখানে তার বিপুলসংখ্যক অনুসারী ছিল।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে কাশিফ ওরফে কাশি নামে এক ব্যক্তি শামসুকে ফোন করেন। ফোনে তাকে দ্রুত বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
এরপর শামসু তার ছোট বোন আসিমা এবং ভাই নাইমাতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বের হন।
কিছুক্ষণ পর একটি পেট্রল পাম্পের কাছাকাছি এলাকায় তাদের গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি গাড়িটির কাছে এসে গুলি ছুড়তে শুরু করে।
গুলির একটি শামসুর ঘাড়ে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গুলিবর্ষণের পর গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে শামসুর ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে শামসুর মরদেহ ট্যাক্সিলার টিএইচকিউ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
শামসুর বাবা ফজল সাহিবজাদা জানিয়েছেন, তার মেয়ে প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটকে ভিডিও তৈরি করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তাও ছিল বেশ বড়। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তার টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।
মেয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার টিকটক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পরিবারের অভিযোগ, শামসুর সঙ্গে কওসার এবং জাভেদ ওরফে শাহিন নামে দুই ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন ছিল।
টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই দুই ব্যক্তি শামসুকে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ নিয়ে ইসলামাবাদে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শামসুর বাবা।
তিনি সন্দেহ করছেন, ওই দুই ব্যক্তি সরাসরি কিংবা অন্য কারও মাধ্যমে তার মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন।
এ ছাড়া ঘটনার আগে শামসুকে ফোন করা কাশিফের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং কারও বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের তথ্য, হামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শামসুর যোগাযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন হলো—হামলার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং মোটরসাইকেলে থাকা দুই বন্দুকধারী কার নির্দেশে এই হামলা চালিয়েছিল।
শামসুর পরিবারের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একজন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাকে প্রকাশ্যে গাড়ির মধ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে—হামলাকারীদের পরিচয় কত দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় কি না।

