মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার কাছাকাছি থাকায় আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠে যায় ৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ০২ ডলারে।
সাপ্তাহিক হিসাবেও স্বর্ণের বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার মার্কেটেও দাম বেড়েছে। সেখানে প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পর প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৯০ ডলার।
ডলারের দুর্বলতাও প্রভাব ফেলেছে
বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফের মতে, মার্কিন ডলারের সূচক দুর্বল হওয়ার কারণে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সাধারণত ডলারের মূল্য কমলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে মূল্যবান এই ধাতুটির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও পণ্যবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে আরও দুটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম চলতি সপ্তাহে বাড়ার পথে রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
শুধু স্বর্ণ নয়, শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
স্পট রুপার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৬৫ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের মূল্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৩৩ দশমিক ৩৪ ডলার।
প্যালাডিয়ামের দামও প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৮ দশমিক ৫০ ডলারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা, ডলারের গতিপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

