ট্রাফিক আইন ভঙ্গের পর আরোপ করা জরিমানা আদায়ে নতুন একটি পদ্ধতির কথা বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের প্রস্তাব, প্রয়োজনে বকেয়া ট্রাফিক জরিমানার অর্থ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এ বিষয়ে মৌখিক পর্যবেক্ষণ করেন।

শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, ভারতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ই-চালান ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক চালান জারি হলেও সব জরিমানা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় মোট প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপির জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি রুপি আদায় করা সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি এখনো বকেয়া রয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে দ্রুত আদায় করা যায়, তা নিয়ে শুনানির সময় আলোচনা হয়। তখন বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলেন। তার প্রস্তাব ছিল, যেসব ক্ষেত্রে মানুষ স্বেচ্ছায় ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধ করছেন না, সেখানে বকেয়া অর্থ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

আদালতের যুক্তি হলো, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ট্রাফিক জরিমানার অর্থ যুক্ত করা হলে মানুষ বকেয়া জরিমানাও পরিশোধ করতে আগ্রহী হতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে এই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিচারপতিরা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, শুধু ই-চালান পাঠানোই যথেষ্ট নয়। আইন ভঙ্গের পর যে জরিমানা করা হচ্ছে, সেটি বাস্তবে আদায় হচ্ছে কি না, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।

জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও উঠে এসেছে শুনানিতে। এর মধ্যে বকেয়া জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত কিংবা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো গাড়ির মালিকের নামে ট্রাফিক জরিমানা বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট গাড়িকে পরিবহন-সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টালে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়েও আদালত মত দিয়েছে। এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলে বকেয়া জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত গাড়িটির বিক্রি বা মালিকানা পরিবর্তনে বাধা তৈরি হতে পারে।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বকেয়া জরিমানার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ এসেছে।

শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নয়, রাস্তায় আকস্মিক নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এ ধরনের তদারকির সময় কোনো গাড়ির বিপুল পরিমাণ বকেয়া জরিমানা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সেটি আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে গাড়ি জব্দ করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আলোচনায় মূল বিষয়টি ছিল—ট্রাফিক আইন ভঙ্গের পর জরিমানা আরোপ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেই অর্থ বাস্তবে আদায় করা এবং আইন অমান্যের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ট্রাফিক জরিমানা যুক্ত করার বিষয়টি আদালতের একটি মৌখিক পরামর্শ বা বিবেচনার প্রস্তাব। এটি দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এখন সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা বিবেচনা করবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version