দেশে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে সংকট চলমান থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রোববার ঘোষিত নতুন দামে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য ৫ টাকা ৮৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা হয়েছে। নতুন মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসির নির্ধারিত নতুন হার অনুযায়ী, এখন প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। এর আগে প্রতি কেজির মূল্য ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। এই হার অনুযায়ী বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় করা হবে।
বিশ্ববাজারে এলপিজির কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও জুন ও জুলাই মাসে দেশে টানা দুই দফা মূল্য কমানো হয়েছিল। তবে আগস্টের শুরুতেই আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলো।
অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য আগের মতোই ৮২৫ টাকা রাখা হয়েছে।
এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা। আগে এর দাম ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
যদিও বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে, ভোক্তাদের অভিযোগ—বাজারে অনেক বিক্রেতাই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নিচ্ছেন। বিশেষ করে পাইপলাইনের গ্যাসসংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য এবং সৌদি আরামকোর প্রকাশিত সৌদি কার্গো প্রাইস (সিপি)-কে ভিত্তি ধরে দেশে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে আসছে। পাশাপাশি আমদানিকারকদের গড় ডলার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।

