বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সে মাঠে নেমে আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স তার পারফরম্যান্সে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা অধরাই থেকে যায়।
ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যদিও জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির জন্য জাতীয় দলের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। তবু আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এখন জোরালোভাবে আলোচনা চলছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই কিংবদন্তি।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গে থাকতে পারেন। তবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের বিদায়ের সময়টি পরিকল্পিতভাবেই নির্ধারণ করতে চান তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম beIN Sports-এর তথ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসির সম্ভাব্য বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আলোচনায় রয়েছে বুয়েনস আইরেসে একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হতে পারে।
মেসির নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা দিয়ে দীর্ঘ শিরোপা-খরা কাটানোর পর আসে ফিনালিসিমা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও তিনি দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে নিজের অসাধারণ নেতৃত্ব ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
যদিও মেসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি, তবুও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং চলমান আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রার সমাপ্তি আর খুব বেশি দূরে নয়।
